দুই ম্যাচ, ৬২ শট, শুন্য গোল: জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেন তুর্কি তারকা

স্পোর্টস ডেস্ক

বেশ কিছু প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলার ও অনেক স্বপ্ন নিয়ে ২৪ বছর পর ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে ফিরেছিল তুরস্ক। কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচ হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে দেশটির। দুই ম্যাচে একটিও গোল করতে না পারার ব্যর্থতা মানতে পারছেন না দলের অন্যতম সেরা তারকা আরদা গুলের। ম্যাচ শেষে তাই জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। 

প্রায় পুরো দ্বিতীয়ার্ধটাই একজন কম নিয়ে খেলেছে প্যারাগুয়ে, তাও কোনো গোল বের করতে পারেনি তুরস্ক। করুণ এই বিদায়ে লজ্জিত তুরস্কের গোটা দল, এমনটাই বলছেন গুলের, ‘আমরা সবাই বিমর্ষ, ভীষণভাবে লজ্জিত। আমরা জাতির কাছে ক্ষমা চাইছি’। 

কেনান ইয়েলদিজ, আর্দা গুলেরদের মতো ইউরোপ মাতানো তরুণদের নিয়ে বিশ্বকাপে আসা এই দলটিকে বলা হচ্ছিল তুরস্কের ‘গোল্ডেন জেনারেশন’। কিন্তু সেই দলটিই ফেরত যাচ্ছে একরাশ হতাশা নিয়ে। রিয়াল মাদ্রিদে খেলা গুলের বলেছেন, বিশ্বকাপের এই হতাশা পরবর্তী বড় টুর্নামেন্টগুলোতে ভুলিয়ে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন তারা। 

দলের ভেতর কোনো মনোমালিন্য কিংবা ব্যক্তিত্বের লড়াইয়ের কারণে তুরস্কের এমন বিপর্যয় কি না, প্রশ্ন উঠেছে এটি নিয়েও। গুলের অবশ্য এরকম কিছুর সম্ভাবনা একদমই নাকচ করে দিয়েছেন, ‘টিম স্পিরিট কিংবা আমাদের নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কোনোটিরই ঘাটতি ছিল না। আমরা স্রেফ মাঠে নেমে গোল করতে পারিনি। এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। আমরা সত্যিই ক্ষমাপ্রার্থী’। 

হতাশার এই বিদায়ে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও করেছে তুরস্ক। ফুটবলের পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান অপ্টা জানাচ্ছে, ১৯৬৬ সালের পরে এই প্রথমবার কোনো দল বিশ্বকাপে প্রথম দুই ম্যাচে ৬২টি শট নিয়েও কোনো গোল করতে পারেনি। কেবল প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচেই গোল অভিমুখে ৩৩টি শট নিয়েছে তুরস্ক, কিন্তু কাজের কাজ হয়নি কোনো। 

দলটির কোচ ভিনসেঞ্জো মন্টেলা এখনো বুঝতে পারছেন না কীভাবে এমনটা হলো, ‘আমরা প্রচুর গোলের সুযোগ তৈরি করেছি। কিন্তু কীভাবে একটিও গোল হলো না, আমি জানি না। অন্য দলগুলো নিজেদের মতো মোমেন্ট পেয়েছে এবং গোল করেছে। মাত্র দুই ম্যাচ পরেই বিশ্বকাপকে বিদায় বলা সত্যিই হতাশাজনক’। 

তবে তীব্র হতাশা সত্ত্বেও খেলোয়াড়দের আগলে রাখছেন তুর্কি কোচ, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই আমরা গোলপোস্টের সামনে আরও নিখুঁত হতে পারতাম। তবে দলের কারোর বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। প্রত্যেকে নিজেদের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছে। ফুটবল খেলাটাই এমন। কখনো কখনো যুক্তি মেনে সবকিছু চলে না। এ কারণেই এটি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর খেলা’। 

এশিয়ার মাটিতে অনুষ্ঠিত ২০০২ বিশ্বকাপে সবাইকে চমকে সেমিফাইনালে খেলেছিল তুরস্ক। তবে এরপর গত পাঁচ আসরে দলটি মূলপর্বে খেলতে পারেনি। কোচের ভাষ্যমতে, বড় মঞ্চে খেলার এই অনভিজ্ঞতা এমন ফলাফলের পেছনে কিছুটা হলেও দায়ী, ‘হয়তো অবচেতনভাবেই এত বছর বড় টুর্নামেন্টে না খেলার চাপ আমাদের এমন ফলাফলের জন্য দায়ী। আমাদের এমন বড় টুর্নামেন্টে নিয়মিত খেলার অভ্যাস করতে হবে’। 

শেষ ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সম্মান রক্ষার ম্যাচ খেলবে দলটি।