রোনালদো-রামোসের গোলে ক্রোয়েশিয়ার হৃদয় ভেঙে শেষ ষোলোতে পর্তুগাল
প্রথমার্ধে ম্যাড়মেড়ে লড়াইয়ের পর দ্বিতীয়ার্ধে ইভান পেরিসিচের গোলে এগিয়ে গিয়েছিলো ক্রোয়েশিয়া। বিদায়ের শঙ্কার মাঝে পর্তুগালের সেরা তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো পেনাল্টি থেকে আনেন সমতা। এই স্কোরলাইন রেখে অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোতে থাকা ম্যাচে যোগ করা সময়ে তৈরি হলো চরম নাটকীয়তা। সেখানে গনসালো রামোসের বাজিমাতের পর ক্রোয়েশিয়ার আত্মঘাতী গোল পাওয়া ও ভিএআরে তা বাতিল হওয়া নিয়ে ছড়ালো উত্তাপ। শেষ পর্যন্ত লুকা মদ্রিচদের হৃদয় ভেঙে শেষ ষোলোতে পা রাখল রোনালদোর পর্তুগাল।
টরন্টো স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে পর্তুগাল। ৫৩ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে গোল করেন পেরিসিচ। ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা টানেন রোনালদো। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে জয়সূচক গোল আসে রামোসের কাছ থেকে। যোগ করা সময়ে খেলা হয়েছে ১৯ মিনিট, ম্যাচের সবচেয়ে বেশি উত্তাপ ছিল ওই সময়টাতেই।
প্রথমার্ধে পর্তুগাল ৬৭ শতাংশ বল দখলে রেখে একচেটিয়া আধিপত্য দেখালেও ক্রোয়েশিয়ার জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। ৪ মিনিটের মাথায় ব্রুনো ফার্নান্দেসের জোড়া প্রচেষ্টা রুখে দেন ক্রোয়েশিয়ান প্রাচীর দমিনিক লিভাকোভিচ। ১৭ মিনিটে রেনাতো ভেইগার হেড বারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে গেলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্রপট। ম্যাচের ধারার বিপরীতে ৫৩ মিনিটে স্তানিসিকের ক্রসে বাঁ দিক থেকে দারুণ এক চিপে পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিওগো কোস্তাকে পরাস্ত করেন ইভান পেরিসিক। উল্লাসে ফেটে পড়ে গ্যালারির ক্রোয়েশিয়ান সমর্থকেরা। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাতে থাকে রবার্তো মার্তিনেসের দল। ৫৮ মিনিটে রাফায়েল লিয়াওয়ের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে কপাল পোড়ে পর্তুগালের। এর ৩ মিনিট পর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
তবে ম্যাচের ৬৮ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সমতা পায় পর্তুগাল। বক্সে রেনাতো ভেইগাকে ক্রোয়েশিয়ার ভ্লাসিচ ফাউল করলে ভিএআর চেকের মাধ্যমে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে পর্তুগালকে ১-১ সমতায় ফেরান অধিনায়ক রোনালদো। ৮১ মিনিটে রোনালদোকে তুলে রুবেন নেভেসকে মাঠে নামান কোচ। তবে কোচের এই সিদ্ধান্ত পছন্দ হয়নি পর্তুগিজ মহাতারকার, মাঠ ছাড়ার সময় তার চোখে-মুখে স্পষ্ট অসন্তোষ দেখা যায়। যদিও পরে সতীর্থদের সঙ্গে মিশে দলের জয়ের তীব্রতার দিকে মন দেন তিনি।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে রেফারি ১০ মিনিট ইনজুরি টাইম ঘোষণা করেন। আর সেখানেই অপেক্ষা করছিল আসল রোমাঞ্চ।
৯০+৪ মিনিট: রাফায়েল লিয়াওয়ের চমৎকার ক্রস থেকে বক্সের ভেতর লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত এক হেডে পর্তুগালকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন বিকল্প হিসেবে নামা গনসালো রামোস।
৯০+১৩ মিনিট: নাটকের তখনও অনেক বাকি ছিল। ক্রোয়েশিয়ার একটি ক্রস থেকে পর্তুগালের বক্সে চরম জটলা তৈরি হয়। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে পর্তুগিজ মিডফিল্ডার রুবেন নেভেসের গায়ে লেগে বল নিজেদের জালেই জড়িয়ে যায় (২-২)। আত্মঘাতী গোলের উল্লাসে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে ক্রোয়েশিয়া শিবির।
৯০+১৫ মিনিট: ক্রোয়েশিয়ার গোলের পর শুরু হয় দীর্ঘ ভিএআর রিভিউ। রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণের সময় অফসাইড পজিশনে ছিলেন জোসকো গভার্দিওল। ফলে রেফারি গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত দিলে স্তব্ধ হয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। স্কোরলাইন আবার ফিরে আসে পর্তুগাল ২-১ ক্রোয়েশিয়া।
৯০+১৮ মিনিট: নিশ্চিত গোল বাতিলের ধাক্কা মেনে নিতে না পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ক্রোয়েশিয়ান সমর্থকেরা। গ্যালারি থেকে মাঠে বোতল ও বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারা হলে খেলা কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে। মাঠজুড়ে তৈরি হয় চরম উত্তেজনা।
অবশেষে সব উত্তেজনা ছাপিয়ে ম্যাচের ১৯তম মিনিটে রেফারি শেষ বাঁশি বাজালে জয়ের উল্লাসে মাতে পর্তুগাল।
এই জয়ে শেষ ১৬ নিশ্চিত করল পর্তুগাল, যেখানে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হতে হবে শক্তিশালী স্পেনের।