কেন বাতিল হলো এনসিপির মনিরা শারমিনের মনোনয়ন, কী হবে সেই আসনে
সরকারি চাকরি ছেড়ে আসার তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসি বলছে, এই মনোনয়ন বাতিলের ফলে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে একটি আসন ফাঁকা থাকল। এই আসনটি পরে উন্মুক্ত হয়ে যাবে এবং পরবর্তীতে নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল ও জোট অংশ নিতে পারবে। তবে মনিরা শারমিনের প্রার্থীতা ফিরে পেতে ইসিতে আপিলের সুযোগও থাকছে।
মনিরা শারমিন নিজেও বলেছেন, তিনি প্রার্থীতা ফিরে পেতে আপিল করবেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্মসচিব মো. মঈন উদ্দিন খান মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানান। আজ ছিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয় ও শেষ দিন। দুইদিনে ৫৩টি মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করে ইসি।
মো. মঈন উদ্দিন খান বলেন, ‘গতকাল ২২ এপ্রিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় আমরা উল্লেখ করেছিলাম যে মনিরা শারমিনের কিছু নথিতে ঘাটতি ছিল। সেগুলো আজ দুপুর ১২টার মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য তাকে বলা হয়েছিল। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা জমা দিয়েছেন।’
মঈন উদ্দিন খান বলেন, ‘আমরা সংরক্ষিত মহিলা আসন সংক্রান্ত আইন এবং আরপিও এর প্রাসঙ্গিক ধারাগুলো পর্যালোচনা করেছি। এতে দেখা যায়, মনিরা শারমিন কৃষি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন যা একটি স্ট্যাটিটিউরি পাবলিক অথরিটি বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ১২ এর (১) (চ) ধারা অনুযায়ী, কোনো এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়া বা অবসর নেওয়ার পর কমপক্ষে তিন বছর অতিক্রান্ত হতে হয়। কিন্তু, তার ক্ষেত্রে তিন বছর পার হয়নি। বিধায়, এই মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হলো।’
মঈন উদ্দিন খান বলেন, ‘বাতিল হওয়া প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল করতে পারবেন। কমিশন তখন তা বহাল বা বাতিল করতে পারবেন।’
যে মনোননয়পত্রটি বাতিল হলো, সেই সংরক্ষিত আসনের কী হবে জানতে চাইলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির উপসচিব মো. মনির হোসেন বলেন, ‘যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো আসন শূন্য থাকে তাহলে পরবর্তীতে তা উন্মুক্ত হয়ে যাবে। জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ এ বলা আছে, বাতিল হওয়া আসনটি পরে উন্মুক্ত হয়ে যাবে। সেই আসনের নির্বাচনে তখন সকল জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবে।’
মনিরা শারমিন সাংবাদিকদের বলেন, আমার চাকরি ছাড়ার বয়স তিন বছর হয়নি এটা ঠিক। কিন্তু, আইনে যা উল্লেখ আছে, সেটি আমার মতো একজন ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তার জন্য প্রযোজ্য না বলে মনে করি। আমি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করব। সরকারি চাকরি থেকে অবসরের তিন বছর পূর্ণ না হলে নির্বাচন করা যাবে না—যে কারণে এই আইনটি করা হয়েছিল, তা আমার জন্য প্রযোজ্য না বলে মনে করি। কারণ, এটা একটা ব্যাংকের চাকরি।’
