আন্তর্জাতিক শব্দসচেতনতা দিবস: সারাদেশে একযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ নানা উদ্যোগ
আন্তর্জাতিক শব্দসচেতনতা দিবস ২০২৬ উদযাপনের অংশ হিসেবে সারা দেশে একযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
আজ বুধবার অধিদপ্তরের ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর আয়োজনে এই দিবস উদযাপন করা হয়।
প্রকল্প কর্তৃপক্ষের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের আওতায় ৬৪ জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। একইসঙ্গে সারাদেশে একযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।
প্রতি বছর এপ্রিল মাসের শেষ বুধবার বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৯৯৬ সাল থেকে আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ ২০০৩ সাল থেকে দিবসটি উদযাপন করে।
এ উপলক্ষে ঢাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আমরা সাধারণত দৃশ্যমান জিনিসকে গুরুত্ব দেই। কিন্তু শব্দদূষণ যেহেতু অদৃশ্য, কাজেই এটাকে কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না। অথচ শব্দদূষণের যে প্রভাব কিংবা শব্দদূষণের যে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি, তা মারাত্মক ক্ষতিকর।’
তিনি শব্দদূষণ রোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘প্রত্যেকে নিজেরা যদি সচেতন হই তাহলেই শব্দদূষণ কমে আসবে। আমাদের প্রাণ-প্রকৃতি বাঁচানোর জন্য সবার দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ১৮টি সংগঠনের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সব সংগঠন যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শব্দদূষণের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করে, তাহলে তা সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সেটা খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. নুরুন নাহার; বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সাইদুর রহমান; ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান; পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময় ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে, প্রকল্পের আওতায় শব্দসচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। শব্দদূষণ মুক্ত পরিবেশ বিনির্মাণে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) বলেন, ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২৫ সালে ট্রাফিক পুলিশকে ক্ষমতায়ন করার পর থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ এ পর্যন্ত ১৭ হাজার মামলা এবং ২ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করেছে।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ বলেন, ‘শব্দদূষণ মনুষ্য সৃষ্ট একটি দূষণ এবং এটা আশংকাজনক হারে বেড়ে চলেছে। শব্দদূষণের কারণে শ্রবণশক্তি নষ্ট হওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কাজেই এই দূষণটি নিয়ন্ত্রণে আমাদের সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।’
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসাধারণের সচেতনতার পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর বক্তারা গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পাশাপাশি জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
আয়োজনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; পরিবেশ অধিদপ্তর; বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ); ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি); বাংলাদেশ স্কাউটস; বাংলাদেশ গার্লস গাইড; বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বেলা, গুলশান সোসাইটি, ধানমন্ডি সোসাইটি, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, পরিবেশ আন্দোলন (পবা), ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন; ট্রাফিক সহায়তাকারী গ্রুপ (ট্যাগ); গ্রিন ভয়েস, গ্রিন সেভার্স, ন্যাচার স্টাডি ক্লাবের প্রতিনিধিরা উপস্থিতি ছিলেন।