সীতাকুণ্ডে জাহাজ ভাঙার কাজ চলাকালে ‘বিষাক্ত গ্যাসে’ মৃত্যু বেড়ে ৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি জাহাজ ভাঙার কাজ চলাকালে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, বিষাক্ত গ্যাস থেকে তাদের মৃত্যু হতে পারে।

আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় ফেরদৌস স্টিল নামে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, এ ঘটনায় মোট আটজন মারা গেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ছয়জনের মরদেহ রাখা আছে। ঘটনাস্থল থেকে আরও দুজনের মরদেহ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বিকেলে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরেক শ্রমিক।

এর আগে, ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ইয়ার্ডসংলগ্ন সাগরে থাকা একটি কর্তনরত জাহাজে দুর্ঘটনার পর ছয়জনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম বলেন, ছয়জনকে হাসপাতালে আনা হলে পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তাদের মরদেহ হাসপাতালের লাশঘরে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে আহত ব্যক্তিও মারা গেছেন।

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রামের কুমিরা স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মো. মামুন বলেন, ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ড থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আরও ‍তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি কাটার সময় সেখানে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ইয়ার্ডের ম্যানেজার মো. ইউসুফ বলেন, একটি এলএনজি জাহাজ কাটা হচ্ছিল এবং জাহাজটির কাটার কাজ শেষপর্যায়ে ছিল।

তিনি বলেন, জাহাজের একটি অংশে তরল বর্জ্য দেখতে পেয়ে সেফটি অফিসারসহ কয়েকজন সেখানে গিয়েছিলেন। সেখানেই দুর্ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম বলেন, তারা দুর্ঘটনার খবর পেয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, একটি টিম ঘটনাস্থলে গেছে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) ডিআইজি মাহবুব হাসান বলেন, আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়ার খবর তারা পেয়েছেন।

তিনি বলেন, মালিক ও শ্রমিক পক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। ঘটনার কারণ জানতে আমরা কাজ করছি।

শ্রমিকনেতা ফজলুর কবির মিন্টু বলেন, ওই জাহাজের ভেতরে জমে থাকা তরল বর্জ্য বা গ্যাসের উপস্থিতি পরীক্ষা না করে শ্রমিকদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যা মালিকপক্ষের গাফিলতি। তাছাড়া বন্ধের দিন সেখানে কাজ চলছিল। বিষয়গুলো তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।