ওয়াকফ সম্পত্তি লুটপাট করে খাওয়া যাবে না: ধর্মমন্ত্রী
ওয়াকফ সম্পত্তির উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন এবং যৌক্তিক আয় ও যথাযথভাবে ব্যয় নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর হবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী ৩ মাসের মধ্যে পরিবর্তন দেখা যাবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ধর্মমন্ত্রী জানান, আমাদের ওয়াকফ সম্পত্তি আছে প্রায় ৬ লাখ ১৪ হাজার ৫১৭ একর। এর মধ্যে ওয়াকফে আওলাদ শ্রেণিতে আছে ২ লাখ ১২ হাজার ৯৯ একর এবং ওয়াকফে লিল্লাহতে আছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ১২০ একর।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এত বিশাল ওয়াকফ স্টেটের সম্পত্তির অধিকাংশই এখন বেহাল অবস্থায় আছে। কারণ প্রশাসনিক দুর্বলতা, দুর্নীতি, অদক্ষতা। গত ১৭ বছর তারা (আওয়ামী লীগ) যেভাবে চালিয়েছে, তাদের কারণেই ওয়াকফ-এর অবস্থা শোচনীয়।’
‘এ জন্য প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন ওয়াকিফরা যে উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করে গেছেন, সেই উদ্দেশ্য যে সুষ্ঠু-সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত হয়। উপার্জিত আয় যেন সেই উদ্দেশ্যেই ব্যয় করা হয়। এখানে থাকবে না চুরি, থাকবে না দুর্নীতি, থাকবে না কোনো অন্যায়,’ যোগ করেন তিনি।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘গাউসিয়া মার্কেট ওয়াকফ স্টেট। এখানে ২২ দশমিক ৪০ বর্গফুটের ৫৮৮টি দোকান রয়েছে। মাসিক ভাড়া ১১২ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ভাড়া ২ হাজার ১১৮ টাকা। যা আশেপাশের অন্যান্য দোকানের তুলনায় খুবই সামান্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘চকবাজার মসজিদ ওয়াকফে লিল্লাহ। সেখানে একটি দোকান ছিল, যার ভাড়া ছিল ৩৫ হাজার টাকা। ২০২৫ সালে ওয়াকফ কমিটি ওই দোকানদারকে উচ্ছেদ করে ২ লাখ ৫২ হাজার টাকায় ওই দোকান ভাড়া দিয়েছে।’
‘ঢাকায় এ রকম প্রচুর ওয়াকফে লিল্লাহ সম্পত্তি আছে, যেগুলো লুটপাট করে খাওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ হলো, লুটপাট করে খাওয়া যাবে না, ওয়াকিফের উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত করতে হবে, চুরি বন্ধ করতে হবে এবং যেসব দোকানের ভাড়া অনেক কম, সেগুলো যেন বর্তমান বাজার অনুযায়ী ভাড়া দেওয়া হয়,’ বলেন তিনি।
ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ যদি আমরা সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারি, আগামী ৩ মাস পরে একটা ভালো কিছু শুনতে পাবেন।’
মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘প্রশাসকদের ভাড়া সমন্বয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’