চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সময় কমেছে, বে-টার্মিনাল চালু হতে পারে ২০৩০ সালে
২০২৪-২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে জাহাজের গড় টার্ন অ্যারাউন্ড সময় ছিল ২ দশমিক ৫৮ দিন। এটি বর্তমান অর্থবছরে ২ দশমিক ১০ দিনে নেমে এসেছে।
আজ বুধবার সংসদ অধিবেশনে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ তথ্য জানান।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নির্মাণাধীন বে-টার্মিনাল ২০৩০ সালের মধ্যে চালু হতে পারে। একইসঙ্গে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল চালু হওয়ায় বন্দরে জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।
কলম্বো ও সিঙ্গাপুর বন্দরের তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দরের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় বেশি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী রবিউল আলম বলেন, কলম্বো ও সিঙ্গাপুর মূলত ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর। সেখানে বড় জাহাজ থেকে কনটেইনার নামিয়ে অন্য জাহাজে তোলা হয়। সেখানে কাস্টমস পরীক্ষা ও ক্লিয়ারেন্সের আনুষ্ঠানিকতা থাকে না।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বন্দর মূলত একটি ফিডার বন্দর। এখানে আগত ও বহির্গামী কনটেইনারের প্রায় ১০০ শতাংশই বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ফলে কাস্টমস পরীক্ষা, ক্লিয়ারেন্স ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়, যে কারণে জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় তুলনামূলক বেশি লাগে।
মন্ত্রী বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে জাহাজের গড় টার্নঅ্যারাউন্ড সময় ইতোমধ্যে কমেছে এবং ভবিষ্যতে আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বে-টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। পাশাপাশি বড় জাহাজের প্রবেশে জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরতা এবং নাব্যতা-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা দূর হবে। এর ফলে বন্দরের সামগ্রিক জট পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া, ২০২৪ সালের জুন থেকে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই টার্মিনাল চালুর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের গড় অপেক্ষমাণ সময় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে বলে তিনি জানান।