মুমিনুল-শান্তর ফিফটিতে ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ
মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিনে ফের বাগড়া দিল বৃষ্টি। আলোকস্বল্পতার বাধায় খেলাও আবার শেষ হলো আগেভাগে। এমন বিরূপ আবহাওয়ার মাঝে আলো ছড়ালেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ মুমিনুল হক। দুই ওপেনার দ্রুত বিদায় নেওয়ার পর তাদের ফিফটি ও শতরানের জুটির কল্যাণে ভালো অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।
রোববার শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান তুলে দিন শেষ করেছে টাইগাররা। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পাওয়ায় পাকিস্তানের বিপক্ষে তারা এগিয়ে গেছে ১৭৯ রানে।
আগের ইনিংসে অনবদ্য সেঞ্চুরি হাঁকানো শান্ত অপরাজিত আছেন ৫৮ বলে। ১০৫ বল মোকাবিলায় ছয়টি চার মেরেছেন তিনি। তার সঙ্গী মুশফিকুর রহিম খেলছেন ১৬ রানে। তার ৩১ বলের ইনিংসে চার তিনটি। আগামীকাল সকালে তারা পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা শুরু করবেন।
এর আগে ১১ ওভারের মধ্যে আউট হন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া পেসার মোহাম্মদ আব্বাস এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন মাহমুদুল হাসান জয়কে। রিভিউ নিলেও কাজ হয়নি। আম্পায়ার্স কল হওয়ায় ৫ রানে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে। আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম পরাস্ত হন হাসান আলীর বাড়তি বাউন্সে। ১০ রান করে গালিতে সউদ শাকিলের তালুবন্দি হন তিনি।
২৩ রানে ২ উইকেট পড়ার চাপ সামলে নেন শান্ত ও মুমিনুল। প্রথম ইনিংসে ১৭০ রানের রেকর্ড জুটি গড়া দুই ব্যাটার ফের ভোগান পাকিস্তানের বোলারদের। শান্ত এগোতে থাকেন সাবলীল কায়দায়, মুমিনুলের মেলে ভাগ্যের ছোঁয়া। একে একে দুজনই তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি।
এই ইনিংস খেলার পথে দারুণ একটি মাইলফলকও স্পর্শ করেন মুমিনুল। টেস্টে বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে তিনি পৌঁছে যান ৫ হাজার রানের ঠিকানায়। এতদিন এই কীর্তি ছিল কেবল মুশফিক ও তামিম ইকবালের। ৫ হাজার রান হতে মুমিনুলের দরকার ছিল ঠিক ৫০ রান। নোমান আলির বলে সুইপ করে সিঙ্গেল নিয়ে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পা রাখেন তিনি।
শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে স্টাম্পের বাইরে খোঁচা মেরে থামেন তিন দফা জীবন পাওয়া মুমিনুল। প্রথম ইনিংসেও ফিফটির স্বাদ নিয়েছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে টেস্টে এটি তার টানা পঞ্চম ফিফটি। ১২০ বলে চারটি চারের সাহায্যে তিনি করেন ৫৬ রান। তার বিদায়ে ভাঙে ১৯৩ বলে ১০৫ রানের জুটি।
মুমিনুল ও শান্ত প্রথম সেশনের বাকিটা নির্বিঘ্নে পার করার পর দ্বিতীয় সেশন ভেসে যায় বৃষ্টিতে। তৃতীয় সেশনে ফের খেলা চালু হওয়ার পর মুমিনুলকে হারায় বাংলাদেশ। এরপর আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি শান্ত ও মুশফিক।
বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতায় এদিন খেলা হতে পেরেছে কেবল ৪৮.৪ ওভার। যদিও সোয়া ৬টা পর্যন্ত খেলা চলার পরিকল্পনা ছিল। এই সময়ে ১৪৫ রান যোগ করেছে বাংলাদেশ, হারিয়েছে ৩ উইকেট।