পাইলটকে ছাড়িয়ে যাওয়া লিটনের সামনে বিশ্ব রেকর্ডের হাতছানি
আবুধাবি টেস্টের চতুর্থ দিনটি হয়ে থাকল লিটন দাসময়। ব্যাটিংয়ে সাবলীল সেঞ্চুরির পর গ্লাভস হাতে তিনি ভেঙে দিলেন দীর্ঘ ২২ বছর ধরে টিকে থাকা এক কীর্তি। বাংলাদেশের হয়ে এক টেস্টে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড এখন তার দখলে। এতদিন অর্জনটি আগলে রাখা খালেদ মাসুদ পাইলটকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এবার লিটনকে হাতছানি দিচ্ছে বিশ্ব রেকর্ড।
সোমবার চলতি টেস্টে আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে পতন হওয়া ৩ উইকেটের সবকটিতেই ক্যাচ তালুবন্দি করেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন। এর আগে প্রতিপক্ষের প্রথম ইনিংসে চারটি ক্যাচ নেওয়ার পাশাপাশি একটি চমৎকার স্টাম্পিংও করেছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে আটটি ডিসমিসাল নিয়ে বাংলাদেশের হয়ে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের নতুন নজির গড়লেন তিনি।
২০০২ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টের দুই ইনিংসে তিনটি করে ক্যাচ ও প্রথম ইনিংসে একটি স্টাম্পিং করে মোট সাতটি ডিসমিসাল নিয়েছিলেন পাইলট। এতদিন রেকর্ডটির একক মালিক ছিলেন তিনি। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর তার সেই কীর্তি টপকে গেলেন লিটন। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে উইকেটের পেছনে নতুন উচ্চতায় পৌঁছালেন তিনি।
পাইলটকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এখন বিশ্ব রেকর্ডও হাতছানি দিয়ে ডাকছে ডানহাতি এই ব্যাটারকে। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে কোনো ম্যাচে সর্বোচ্চ ১১টি ডিসমিসালের কীর্তি যৌথভাবে তিনজনের দখলে। তারা হলেন ইংল্যান্ডের জ্যাক রাসেল, দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ভারতের রিশব পান্ত।
আফগানিস্তানের বাকি ৭ উইকেটের মধ্যে আর মাত্র তিনটি ডিসমিসাল পেলেই বিশ্ব রেকর্ডের পাতায় এই তিনজনের পাশে নাম লেখাবেন লিটন। আর চারটি পেয়ে গেলে তো কথাই নেই! তিনি এককভাবে পৌঁছাবেন চূড়ায়।
উইকেটের পেছনে নিজের এই ছন্দ নিয়ে লিটন নিজেও দারুণ রোমাঞ্চিত। গ্লাভস হাতে উইকেটের আচরণ বুঝতে পারা ব্যাটিংয়েও রসদ জোগায় উল্লেখ করে চতুর্থ দিন শেষে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, নিশ্চিতভাবেই সাহায্য করে। কারণ, উইকেটের পেছনে থাকায় আমি অনেক কিছু বুঝতে পারি, উইকেট সম্বন্ধে একটা ধারণা চলে আসে। সেটা আমার ব্যাটিংয়ে অনেকটা সাহায্য করে।’
ব্যাট হাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাঁচ ইনিংসে চার শূন্যের ঘোর অন্ধকার কাটিয়ে এই টেস্টেই স্বরূপে ফিরেছেন লিটন। চরম মানসিক চাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তিক্ত সমালোচনা পেছনে ফেলেছেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ৫৩ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়ানডে মেজাজে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি।
১১৭ বল মোকাবিলায় ১৪টি চারে ১০২ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন ৩২ ছুঁইছুঁই এই তারকা। ভাগ্যও সঙ্গ দেয় তাকে। ব্যাটিংয়ে বেশ কয়েকবার জীবন পেয়ে তা পুরোপুরি কাজে লাগান।
স্বস্তি আর অনেক জবাব দেওয়ার শতক ছোঁয়ার পথে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ১৪৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন লিটন। এতে আফগানিস্তানকে শেষ ইনিংসে ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য দিতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। আগামীকাল শেষদিনে জয়ের জন্য টাইগারদের চাই ৭ উইকেট, আফগানদের দরকার আরও ৩৪৭ রান।

