এমবাপের পেনাল্টি মিসে রিয়ালের জয়ের রথ থামাল বেতিস
জয়ের রথটা ছুটছিল টানা তিন ম্যাচ ধরে। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন অভিযানে নামার ঠিক আগে এসে সেই ছুটে চলায় লাগাম টেনে ধরল রিয়াল বেতিস। একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পেল না রিয়াল মাদ্রিদ। উল্টো ম্যাচের শেষদিকে গোল হজম করে মৌসুমের প্রথম হারের স্বাদ পেল জোসে মরিনহোর দল। নাটকীয় সমাপ্তিতে পেনাল্টিও মিস করলেন কিলিয়ান এমবাপে।
লা কার্তুহায় শুক্রবার রাতে লা লিগার ম্যাচে বেতিসের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ম্যাচের ৮১তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন ত্রয় প্যারত।
টানা তিন জয়ের পর এটাই রিয়ালের প্রথম পয়েন্ট হারানো। সেটিও এমন এক ম্যাচে, যেখানে শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে স্পেনের প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়া বেতিস ও রিয়ালের লড়াইয়ে তাই শুরু থেকেই ছিল বড় ম্যাচের উত্তাপ।
ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি আক্রমণভাগে ইস্কো, আন্তোনি, ফর্নালস ও চুচোকে একসঙ্গে খেলান। অন্যদিকে মালাগার বিপক্ষে বেঞ্চে থাকার পর একাদশে ফেরেন আরদা গুলার। তবে মরিনহোর একাদশে সবচেয়ে বড় চমক ছিল এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার অন্তর্ভুক্তি। আর বার্নার্দো সিলভা টানা দ্বিতীয় ম্যাচের মতো এবারও স্কোয়াডেই ছিলেন না।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলকে দেখা যায় দ্রুত আক্রমণে উঠতে। মাঝমাঠে বল দখলের লড়াইয়ে সময় নষ্ট না করে দুদলই দ্রুত প্রতিপক্ষের বক্সে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল। তবে ম্যাচের শুরুর দিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে খেলার বলটি। খেলোয়াড়দের অভিযোগের পর কয়েকবার বল বদলানো হয়। শেষ পর্যন্ত সঠিকভাবে বাতাস ভরে সমস্যার সমাধান করা হয়।
এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করে রিয়াল। আর তাদের প্রায় প্রতিটি বিপজ্জনক আক্রমণের সঙ্গেই জড়িয়ে ছিলেন গুলার। তুর্কি তরুণ বুঝে গিয়েছিলেন, বেতিসের ডান প্রান্তে হেক্টর বেলেরিন ও ফ্রান গার্সিয়ার জন্য তাকে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। সেই দুর্বলতাকেই কাজে লাগিয়ে একের পর এক আক্রমণ তৈরি করতে থাকেন তিনি।
গুলারের ক্রস থেকে হুইসেনের শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে বেতিসকে বিপদমুক্ত করেন ভায়েস। এরপর কাছ থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তখন মনে হচ্ছিল, রিয়ালের গোল পেতে আর খুব বেশি অপেক্ষা করতে হবে না।
কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচে ফিরে আসে বেতিসও। আন্তোনি ও চুচোর কয়েকটি আক্রমণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে রিয়ালের রক্ষণ। ফলে ম্যাচের একপর্যায়ে কোনো দলই আর পরিষ্কারভাবে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারছিল না।
প্রথমার্ধের শেষদিকে অবশ্য আবারও চাপ বাড়ায় রিয়াল। ৩৯ মিনিটে সতীর্থ মার্ক রোকার সঙ্গে সংঘর্ষে নাকে গুরুতর আঘাত পান রিয়ালের লরেন্তে। চোটের কারণে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়।
এরপর এমবাপে পান দুটি দারুণ সুযোগ। প্রথমবার তার শট ঠেকিয়ে দেন নাতান। দ্বিতীয়বার তো প্রায় নিশ্চিত গোলই বাঁচিয়ে দেন বার্ত্রা—লাইন থেকে বল ফিরিয়ে দেন তিনি।
বিরতির ঠিক আগে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন বেলিংহামও। কিন্তু ভায়েসের দুর্দান্ত সেভে সেটিও আটকে যায়। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে হুইসেনের হেড বেতিসের ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে হতাশা আরও বাড়ে রিয়াল শিবিরে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও রিয়ালই তুলনামূলক বেশি আক্রমণাত্মক ছিল। তবে সেই আক্রমণ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো ঘটনা তৈরি হচ্ছিল না। ৫৩ মিনিটে অবশ্য ম্যাচে নতুন উত্তেজনা ছড়ায়। গুলের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে লাল কার্ড পেয়েছেন, এমন দাবি করে বেতিসের খেলোয়াড়রা রেফারির কাছে আবেদন করেন। কিন্তু রেফারি তাতে সাড়া দেননি। বরং প্রতিবাদ করায় দুমফ্রিস ও মরিনহোকে হলুদ কার্ড দেখান তিনি।
এরপর দুই কোচই বদলি খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্ত নেন। পেলেগ্রিনি আগে পরিবর্তন আনেন। জবাবে মরিনহো একসঙ্গে তিন খেলোয়াড়কে মাঠে নামান। সেই তিন পরিবর্তনের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল গুলারেকে তুলে নেওয়া। ম্যাচে রিয়ালের অন্যতম কার্যকর খেলোয়াড় হয়েও তাই মাঠ ছাড়তে হয় তুর্কি তরুণকে।
শেষ পর্যন্ত কাজে লাগে পেলেগ্রিনির বদলি। ৮১ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা প্যারত বেতিসকে এগিয়ে দেন। গোলটির ঠিক আগে কোর্তোয়া দুর্দান্ত একটি সেভ করেছিলেন। কিন্তু তার ঠেকানো বলটি গিয়ে পড়ে প্যারতের সামনে। সেই সুযোগ আর নষ্ট করেননি তিনি। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠিয়ে বেতিসকে এগিয়ে দেন।
গোল খাওয়ার পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে রিয়াল। ৮৭ মিনিটে এস্পির করা গোল তাদের স্বস্তি এনে দিয়েছিল। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
তবে নাটকের তখনো বাকি। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ভিনিসিয়ুসকে ফাউল করা হলে রিয়ালকে পেনাল্টি দেন রেফারি। সমতা ফেরানোর বড় সুযোগ পেয়ে যান এমবাপে। কিন্তু ফরাসি ফরোয়ার্ডের স্পটকিক ঠেকিয়ে দেন ভায়েস।
এরপর ভিএআরে যাচাই করা হয়, পেনাল্টিটি আবার নেওয়া উচিত কি না। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত আসে, পেনাল্টি পুনরায় নেওয়া হবে না। আর তাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় বেতিসের জয়।