শেষ ম্যাচে আবেগ সামলাতে পারলেন না মেসি
ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বিশেষ দিনগুলোর একটির পার করছেন লিওনেল মেসি। ২১ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের পর বেনিনের বিপক্ষে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে তার গল্পের শেষ অধ্যায় লিখছেন কিংবদন্তি এই ফুটবলার। বিদায়ের এই মুহূর্তে নিজেকে আবেগ লুকাতে পারেননি রোজারিওর এই মহাতারকা। ম্যাচের আগে থেকে শুরু করে মাঠের ভেতরেও বারবার ফুটে উঠেছে তার আবেগ, কখনো চোখের জলে, কখনো তৃপ্তির হাসিতে।
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসে আর্জেন্টিনার জাতীয় সংগীতের সময়। সতীর্থ ও কোচ লিওনেল স্কালোনির মতো মেসির চোখেও তখন জল। আবেগ সামলানোর চেষ্টা করলেও চোখের পানি আটকে রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সিধারী। মাথা উঁচু করে সামনে তাকিয়ে ছিলেন তিনি, পাশে ছিল ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের পতাকা। সংগীতের কয়েকটি মুহূর্তে যেন চারপাশের সবকিছু ভুলে নিজের দীর্ঘ পথচলার স্মৃতিতে ডুবে ছিলেন মেসি।
তবে চোখের জল সামলে সেই বিশেষ মুহূর্তটাকে উপভোগও করেছেন তিনি। গ্যালারিজুড়ে তার জন্য তৈরি হওয়া উৎসবের আবহ দেখে কয়েক সেকেন্ড থমকে ছিলেন মেসি। এরপর ঠোঁটে ফুটে ওঠে ছোট্ট, তৃপ্তির এক হাসি, যেন এত বছরের ভালোবাসার শেষবারের মতো অনুভূতি নিচ্ছিলেন তিনি।
ম্যাচ শুরুর পরও থামেনি বিদায়ের আবেগ। প্রথমার্ধের ১০ মিনিটে হঠাৎ যেন ফুটবল ম্যাচের কথা ভুলে গেলেন মাঠের ২২ খেলোয়াড়। আগে থেকেই মেসির শেষ ম্যাচ উপভোগ করার কথা জানিয়েছিলেন বেনিনের ফুটবলাররা। তাই অপ্রত্যাশিত সেই বিরতিতে কয়েকজন বেনিন খেলোয়াড় এগিয়ে এসে মেসিকে শুভেচ্ছা জানান। আর গ্যালারিতে তখন অন্য দৃশ্য, পুরো মনুমেন্তাল দাঁড়িয়ে, করতালিতে শেষবারের মতো নিজেদের অধিনায়ককে অভিবাদন জানাচ্ছে।
এর আগেই অবশ্য দিনের প্রথম বড় আবেগঘন মুহূর্তটি এসেছিল। স্টেডিয়ামের পথে দলের বাসে বসে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি মেসি। আর্জেন্টাইন সমর্থকদের ভালোবাসার ঢল দেখে বাসের ভেতরেই কেঁদে ফেলেন তিনি। আবেগ সামলে নেওয়ার চেষ্টা করলেও চোখের পানি থামেনি। বাইরে থাকা সমর্থকদের দিকে তাকিয়ে শুধু উষ্ণ এক হাত নেড়ে ভালোবাসার জবাব দিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।
পরে শেষবারের মতো জাতীয় দলের হয়ে ওয়ার্ম-আপ করতে মাঠে প্রবেশের সময় দুই হাত তুলে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন গ্যালারির দিকে অভিবাদন জানান মেসি। আর সেটুকুতেই যেন বিস্ফোরিত হয় মনুমেন্তাল। মুহূর্তেই গর্জে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম।
এরপর যখন ঘোষক একে একে আর্জেন্টিনার একাদশের নাম ঘোষণা করছিলেন, তখন মেসির নাম আসতেই একসঙ্গে গর্জে ওঠে হাজারো কণ্ঠ। শেষবারের মতো ১০ নম্বর জার্সি গায়ে, শেষবারের মতো জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এভাবে, 'শেষবারের মতো ১০ নম্বর জার্সিতে, আমাদের অধিনায়ক, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। কিংবদন্তি লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।'
এই একটি ঘোষণাই যেন ২১ বছরের পুরো গল্পটাকে মুহূর্তের মধ্যে ফিরিয়ে আনল। যে গল্পে ছিল হার, কান্না, সমালোচনা, অপেক্ষা, বিশ্বকাপ জয়, অসংখ্য ট্রফি, আর ছিল কোটি মানুষের ভালোবাসা। এবার সেই গল্পের শেষ পাতায় দাঁড়িয়ে মেসি।