চ্যাম্পিয়ন হলেই প্রথম ম্যাচে হার, এবার ইতিহাস পাল্টাবে আর্জেন্টিনা?
বিশ্বজয়ের নতুন মিশন শুরু করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা, এবার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। আগামীকাল বুধবার সকালে 'জে' গ্রুপের ম্যাচে লিওনেল মেসি-লিওনেল স্কালোনিদের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। কাগজে-কলমে কিংবা শক্তির বিচারে বর্তমান আলবিসেলেস্তেরাই পরিষ্কার ফেভারিট। তবে সমর্থকদের মনে কিছুটা হলেও শঙ্কা তৈরি করেছে দলের অতীত পারফরম্যান্স।
ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপ জেতার পরের আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কখনোই জয় পায়নি আর্জেন্টিনা।
১৯৭৮ সালে ঘরের মাঠে প্রথম শিরোপা জয়ের পর, ১৯৮২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুতে বেলজিয়ামের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল আকাশি-সাদারা। বেলজিয়ানদের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছিলেন এরউইন ভ্যান্ডেনবার্গ। একই ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি ঘটে ১৯৯০ বিশ্বকাপেও। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোতে দিয়েগো ম্যারাডোনার অতিমানবীয় নৈপুণ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পর, ইতালির মাটিতে ক্যামেরুনের কাছে ১-০ গোলে হেরে স্তব্ধ হয়েছিল আর্জেন্টিনা। আফ্রিকার দলটির হয়ে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন ফ্রাঁসোয়া ওমাম-বিয়িক।
অবশ্য প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়ার মধ্যেও আর্জেন্টিনার জন্য একটি ইতিবাচক দিক রয়েছে। ১৯৯০ সালের সেই আসরে শুরুতে ধাক্কা খেয়েও শেষ পর্যন্ত ফাইনালে পৌঁছেছিলেন ম্যারাডোনারা, যেখানে তাদের পরাস্ত হতে হয় তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির কাছে। আর চার বছর আগের কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতি তো এখনও জ্বলজ্বলে। প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে অঘটনের শিকার হওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত পরম আরাধ্য সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেছিলেন মেসিরা। তাই প্রথম ম্যাচের ফলই যে টুর্নামেন্টের শেষ কথা নয়, তা আর্জেন্টিনা খুব ভালো করেই জানে।
অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ আলজেরিয়াকে সহজ ভাবার উপায় নেই আর্জেন্টিনার। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে তারা। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতির জন্য খেলা প্রীতি ম্যাচে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসকে ১-০ হারানোর পাশাপাশি বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা। আর গত মার্চের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে গুয়াতেমালার বিপক্ষে ৭-০ গোলের বড় জয়ের পর উরুগুয়ের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল তারা।
যদিও গত জানুয়ারিতে সবশেষ আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের কোয়ার্টার ফাইনালে নাইজেরিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল আলজেরিয়া, তবে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তাদের পারফরম্যান্স ছিল চোখ ধাঁধানো। ১০ ম্যাচের ৮টিতেই জয়ের সঙ্গে ১টি করে ড্র ও হারে তারা নিশ্চিত করে বিশ্বমঞ্চের টিকিট।
আলজেরিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনা ফিরেছে ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে। স্কালোনির স্কোয়াডে রয়েছে বিশ্বমানের একঝাঁক তারকা। কাতার বিশ্বকাপের শিরোপাজয়ী দলের ১৭ জন খেলোয়াড়ের ওপর এবারও আস্থা রেখেছেন কোচ। আর অধিনায়ক মেসির উপস্থিতি ডাগআউট থেকে মাঠ— সবখানেই বাড়তি অনুপ্রেরণা। বিশ্বকাপে অনেক ব্যক্তিগত রেকর্ড মালিক এই মহাতারকা গতবার ৭ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট করে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে জিতেছিলেন গোল্ডেন বল।
কাগজে-কলমের আর্জেন্টিনা অনেক এগিয়ে থাকলেও হতাশার ইতিহাস তাদের স্বস্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। মেসিরা দল কি পারবেন এবার অতীতকে পেছনে ফেলে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করতে? উত্তরটা পাওয়া যাবে মাঠের লড়াইয়েই।