কক্সবাজারে চুরির অভিযোগ তুলে মাইক্রোবাসচালককে পিটিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় মাছ চুরির অভিযোগ তুলে এক মাইক্রোবাসচালককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

নিহত ফয়সাল মোহাম্মদ সেলিম চৌধুরী বাবু (৩১) একই উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন।  

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিফাতুল মোজাদ্দার দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় নিহত ফয়সালের মা দিলদার বেগম একটি মামলা করেছেন।

এজাহারে বলা হয়, ইসলামপুর ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে একদল লোক ফয়সালকে মাছ চুরির অভিযোগে তুলে নিয়ে গত ১৬ এপ্রিল রাতভর নির্যাতন করে।

অভিযোগে বলা হয়, সেদিন রাত ১০টার দিকে আতাউল্লাহ (৩১) নামে একজন মাইক্রোবাস ভাড়ার কথা বলে ফয়সালকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর তাকে ছিয়াজ্জা খালী এলাকার কৈলাসের ঘোনা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে উত্তর নাপিতখালী ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নূর মোহাম্মদ (৫৭), মোবারক (৩৫), রমজ (৩৮), আবু নোমান ওরফে আজুমান (৩৮) ও বেলাল ওরফে কালা বেলালসহ বেশ কয়েকজন মিলে ফয়সালকে নির্যাতন করেন।

নির্যাতনের বিষয়ে এজাহারে বলা হয়, নির্যাতনের একপর্যায়ে ফয়সালকে হাত-পা বেঁধে বস্তায় ভরে লোহার রড, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের হাড় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরদিন সকালে গলায় রশি বেঁধে টেনেহিঁচড়ে নিউ অফিস বাজারে নিয়ে গিয়ে আবারও জনসমক্ষে মারধর করা হয় তাকে।

খবর পেয়ে ফয়সালের স্ত্রী জেসমিন (২৮) ঘটনাস্থলে গেলে তাকে লাঞ্ছিত করা হয় এবং ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এমনকি জোর করে ফাঁকা স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার পর ফয়সালকে ছাড়া হয়।

আহত ফয়সালকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শারীরিক নির্যাতনের ফলে ফয়সালের কিডনি বিকল হয়ে যায়। হাসপাতালে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।

ওসি সিফাতুল মোজাদ্দার ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আসামিরা পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই নৃশংস ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।'