‘শরীরে এত গুলি করবো যে পরিবার গুনে শেষ করতে পারবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে এক সাংবাদিকের কাছে চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওই সাংবাদিক।

জিডিতে সাংবাদিক বিপ্লব দে পার্থ উল্লেখ করেছে, একটি নম্বর থেকে তাকে হোয়াটসঅ্যাপে কল ও অডিও বার্তা পাঠিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হয়। এই সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

জিডি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের ‘সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের ছোটভাই ডেভিড ইমন’ পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি এই হুমকি দেন।

‘ডেভিড ইমন’ পরিচয়ে হুমকিদাতা মোবারক হোসেন ইমন একাধিক হত্যা মামলার পলাতক আসামি এবং পুলিশের তালিকাভুক্ত পলাতক আসামি সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

বিপ্লব দে জিডিতে হত্যার হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করলেও চাঁদা দাবির বিষয়টি উল্লেখ করেননি।

বিপ্লব দে বাংলা টিভির চট্টগ্রাম ব্যুরোতে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত। তিনি জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

ইমন হোয়াটসঅ্যাপে অডিও বার্তায় বলেছেন, ‘...তুমি গাড়ি বিক্রি করে এখন সিএনজি অটোরিকশা চালাও... তোমার বোল্লার বাসা বানিয়ে দেবো। এত গুলি করবো যে তোমার পরিবারও গুনে শেষ করতে পারবে না। যা করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই করতে হবে। গুলি কাউকে চিনে না।’

এ বিষয়ে বিপ্লব দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সন্ত্রাসী ইমন নিজেকে বড় সাজ্জাদের সহযোগী পরিচয় দিয়ে বিদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে আমাকে কল করে। প্রথমে সে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে। আমি টাকা দিতে পারব না বললে সে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা দিয়ে দেওয়ার আলটিমেটাম দেয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমে সে আমাকে কল করে, পরে হোয়াটসঅ্যাপে ভয়ভীতি দেখিয়ে অডিও বার্তা পাঠায়।’

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘হুমকি ও চাঁদা দাবির ঘটনায় একটি জিডি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সন্ত্রাসী ইমনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

কে এই ইমন

মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরের মো. মুসার ছেলে। ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় ‘ঢাকাইয়া আকবর’ নামে এক শীর্ষ সন্ত্রাসী হত্যাসহ সাতটি মামলার আসামি তিনি।

পুলিশের দাবি, ইমন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহারে তিনি অত্যন্ত দক্ষ। জোড়া খুনের ঘটনায় তিনি সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও অভিযানের জন্য ভাড়া করা মোটরসাইকেলের ব্যবস্থা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বর্তমানে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুইজন। তাদের একজন হলেন এই ইমন। আগে স্থানীয়ভাবে এই চক্রের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন ‘ছোট সাজ্জাদ’। ছোট সাজ্জাদ বর্তমানে কারাগারে থাকায় ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান আলম নামে আরেকজন চক্রটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধের অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বড় সাজ্জাদের চক্রে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে। ইমন ও রায়হান ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি দিয়ে সাজ্জাদের হয়ে চাঁদা আদায় করে যাচ্ছেন। একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ জানালেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।