মাথায় গুলি নিয়ে লাইফ সাপোর্টে শিশু রেশমি, এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে দুর্বৃত্তরা
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাতে দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণের ঘটনায় ১১ বছরের শিশু রেশমি আক্তার এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে থাকা রেশমির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
আজ শনিবার সকালে শিশুটির চিকিৎসার বিষয়ে চমেক হাসপাতালে একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড বসে। এরপর চিকিৎসকরা জানান, রেশমির মাথায় আটকে থাকা গুলিটি এখনই বের করা সম্ভব নয়।
মেডিকেল বোর্ডে নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাইফুল আলম, অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগের অধ্যাপক কে এম বাকি বিল্লাহ এবং চক্ষু বিভাগের অধ্যাপক তানুজা তানজিনসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. কে এম বাকি বিল্লাহ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গুলিটি রেশমির বাঁ চোখ দিয়ে ঢুকে মস্তিষ্কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অংশ ছেদ করে মাথার পেছনের অংশে আটকে আছে। এই মুহূর্তে অস্ত্রোপচার করে গুলি বের করতে গেলে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণের আশঙ্কা রয়েছে। সেক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেবে।’
তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া তার মাল্টি অর্গান ফেইলর (শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিকল) হতে শুরু হয়েছে। বর্তমান অবস্থায় তাকে কেবল লাইফ সাপোর্টে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।’
চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানান, রেশমির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপাতত কোনো অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে না।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রেশমি ব্যারিস্টার মিল্কি মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনার দিন রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে তার মা সখিনা বেগম তাকে পাশের দোকান থেকে পান আনতে পাঠান। রৌফাবাদ বিহারি কলোনির গলিতে তখন মুখে মাস্ক পরা একদল দুর্বৃত্ত হাসান রাজু (২৪) নামে এক যুবককে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ছিল। ছোট রেশমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি তার বাঁ চোখ ভেদ করে মাথার ভেতরে ঢুকে যায়।
রেশমির বড় ভাই ফয়সাল আহমেদ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘আমার ছোট বোনটা পান কেনার জন্য ঘর থেকে বের হয়েছিল। এখন সে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। ডাক্তাররা বলেছেন কোনো আশা নেই। আমরা শুধু আল্লাহকে ডাকছি।’
পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে রেশমি সবার ছোট। তাদের বাবা রিয়াজ আহমেদ পেশায় একজন সবজি বিক্রেতা।
রেশমির বাবা রিয়াজ আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ আমার মেয়ের এই অবস্থা হয়েছে, কাল অন্য কারো হবে। এই সন্ত্রাসীদের কঠোর শাস্তি চাই। যাতে আর কোনো বাবা-মায়ের বুক খালি না হয়।’
সেদিনের গুলির ঘটনায় নিহত হয়েছেন হাসান রাজু। ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের দুইদিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
আজ সকালে রেশমির মা সখিনা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করেছেন।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে রাজুকে হত্যা করা হয়েছে বা কারা এই মাস্কধারী সন্ত্রাসী, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ।
গতকাল রাতে হাসপাতালে রেশমিকে দেখতে যান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে।’