রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশি রিয়াদ: কিশোরগঞ্জের বাড়িতে শোকের আবহ
ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া বাংলাদেশি মো. রিয়াদ রশিদের মৃত্যুতে শোকের আবহ নেমে এসেছে তার কিশোরগঞ্জের বাড়িতে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিহত রিয়াদের বন্ধু লিমন দত্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে এ মৃত্যুর সংবাদ পরিবারকে জানান। নরসিংদীর বাসিন্দা লিমন ও রিয়াদ সেনাবাহিনীর একই ক্যাম্পে ছিলেন।
২৮ বছর বয়সী রিয়াদ গত ৭ এপ্রিল রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তার ব্যাচ নম্বর ৭৩৫। তিনি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদের ছেলে।
রিয়াদের চাচাতো ভাই জহিরুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘রিয়াদের সঙ্গে থাকা বন্ধু লিমন দত্ত তাদের জানিয়েছেন, গত ২ এপ্রিল রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুই বাংলাদেশি ও এক নাইজেরীয় সৈন্য নিহত হন। আহত হন আরও তিনজন।’
‘হামলায় লিমন দত্ত নিজেও একটি পা হারিয়ে সেখানকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। গতকাল শুক্রবার তিনি রিয়াদ রশিদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পরিবারকে জানান,’ বলেন জহিরুল।
২০২৪ সালের অক্টোবরে একটি কোম্পানির চাকরি করতে রাশিয়াতে যান পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ রিয়াদ। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে গত মাসে যোগ দেন সেনাবাহিনীতে।
জহিরুল আরও জানান, পরিবারের সঙ্গে রিয়াদের শেষ কথা হয় গত ২৮ এপ্রিল। এখনো তার মরদেহের সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় কী করা উচিত—বুঝে উঠতে পারছে না পরিবার।
রিয়াদের বাবা আব্দুর রশিদ জাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার কথা ও আমাকে জানায়নি। জানলে আমি আমার ছেলেকে কখনোই এ কাজ করতে দিতাম না। ছেলের মরদেহের সন্ধান পাচ্ছি না। ড্রোন হামলায় নাকি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বাবা হিসেবে এ কষ্ট কেমন করে সহ্য করব?’
জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, ‘রিয়াদ রশিদ এলাকার ছোট ভাই। ঘটনাটি জানার পর তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। পরিবারের সবাই শোকে কাতর। সরকারের উচিত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো।’
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির বলেন, ‘পুলিশ খবর পেয়ে নিহত রিয়াদের বাড়িতে গিয়েছিল। পারিবারিক সূত্রে মৃত্যুর বিষয়টি সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।’