ভর্তি পরীক্ষা: বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষায় বৈষম্যের দেয়াল
বাধ্যতামূলক শিক্ষার লক্ষ্য হলো সামাজিক সমতা। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষা এই সমতা নষ্ট করে।
মতামত
মাহফুজ আনামের কলাম / প্রধানমন্ত্রীর সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ
নতুন নির্বাচন, নতুন সংসদ, দেশের নেতৃত্বে নতুন ব্যক্তি, জবাবদিহিমূলক শাসনের নতুন সম্ভাবনা। সবমিলিয়ে নতুন এই পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে জনগণের ইচ্ছারই প্রতিফলন। তারেক রহমানের নতুন নেতা হিসেবে আবির্ভাবও সেই পরিবর্তনেরই অংশ।
সীতাকুণ্ডের ‘সুন্দরবন’ রক্ষায় সরকারকে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে
প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো কেন বনভূমিকে খালি জমি হিসেবেই দেখে? কেন দেশের জলবায়ু সুরক্ষার জন্য আইনি সুরক্ষিত পরিবেশব্যবস্থা হিসেবে দেখছে না?
২২ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন
সম্পাদকীয়
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যের জন্য সাধুবাদ, নির্বাচিতদের অবশ্যই সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে
যেসব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো গেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো—নিম্নকক্ষের নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত আনুপাতিক ভোটের ভিত্তিতে (পিআর) সংসদের একটি উচ্চকক্ষ গঠনের অনুমোদন।
১ আগস্ট ২০২৫, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন
মতামত
সড়কগুলোতে এখনই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হওয়া উচিত
সম্পাদকীয়
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন দীর্ঘদিনের দাবি
সম্পাদকীয়
প্রখর ব্যক্তিত্বের বিভায় সমুজ্জ্বল সৈয়দ আকরম হোসেন
প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এক সম্মাননা অনুষ্ঠানে দুঃখ করে বলেছিলেন শিক্ষকদের দেখলে শিক্ষার্থীরা আর অন্তর থেকে ভক্তি-শ্রদ্ধা করে না। কিন্তু এই দহনকালে এখনও কিছু শিক্ষক আছেন যাদের অন্তর থেকে শ্রদ্ধা করে, ভালোবাসে শিক্ষার্থীরা। মাথার মুকুট মনে করে তাদের সামনে শ্রদ্ধায় অবনত হয়। হতাশায় আচ্ছন্ন সময়ে তারাই জাতির বাতিঘর। নিঃসন্দেহে এ কালে সৈয়দ আকরম হোসেন তাদের মধ্যে অন্যতম।
৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন
কিছু আন্দোলন মানুষের হাতে থাক
আমাদের আন্দোলনগুলো হাতছাড়া হয়ে যায়, লুট হয়ে যায়। কখনো বন্ধুর বেশে ঢুকে পড়ে, কখনো শত্রুর বেশে হামলে পড়ে সুযোগ নেয় অন্যরা। অনেক বছর ধরে সাধারণ মানুষের কোনো আন্দোলন চূড়ান্তভাবে আর তাদের হাতে থাকছে না।
৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন
রাজনীতি ও ভাষার অপব্যবহার
বাকস্বাধীনতা এবং নাগরিকের ব্যক্তিগত বিষয় ও গোপনীয়তা উভয়ই সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত। একটা আর একটা মাড়িয়ে যেতে পারে না। আর সেই সীমাবদ্ধতাগুলোও সংবিধান ঠিক করে দিয়েছে। এই অধিকারগুলো একই সঙ্গে সাংবিধানিক দায়িত্বও বটে, যা রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে বাধ্য থাকে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়ও এই অধিকারগুলো খর্ব করা যায় না। তাই, সাধারণ নাগরিকদের চেয়ে, এই অধিকারগুলো টিকিয়ে রাখতে রাজনীতিবিদদেরই দায়িত্ব বেশি থাকে। আইনি দিক বাদ দিয়ে নীতিগত ভাবে দেখলেও রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব আগে চলে আসে। রাজনীতি যারা করেন, তারা শুধু দেশই চালান না, তারা জাতির পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করেন। পারিবারিক শিক্ষা যেমনি মানুষকে পরিশীলিত করে, তেমনি রাষ্ট্রীয় শিক্ষাও মানুষকে জাতীয় জীবনের আচরণ ও ব্যবহারকে তৈরি করে দেয়। এই রাষ্ট্রীয় শিক্ষার খানিকটা আসে, রাজনীতিক আর রাষ্ট্রনায়কদের আচরণ আর ভাষার ব্যবহার থেকে। কারণ মানুষের মুখের ভাষা, শুধু যে কিছু প্রকাশ্য শব্দ তা নয়, বরং তা একজনের জীবনাদর্শ, নীতিজ্ঞান আর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এরও প্রতিফলন।
৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন
৯০ এর আন্দোলনের ৩ দশক: ফিরে দেখা আমাদের আকাঙ্ক্ষা ও অর্জন
আজ থেকে ৩ দশক আগে সামরিক জান্তা এরশাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ বছর আন্দোলনের পর তার পতন হয়েছিল। সে আন্দোলনে প্রায় ৩৭০ জন জীবন দিয়েছিলেন, পঙ্গু-গুম হয়েছিলেন অসংখ্য মানুষ। হরতাল হয়েছিল প্রায় ১ বছর ৩২৮ দিন! অবরোধ হয়েছিল ৭০ দিন। জাতীয় সম্পদ ও আর্থিক ক্ষতিও হয়েছিল প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার।
৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন
শুধু মেয়েদেরই নয়, যৌন নিপীড়ন করা হচ্ছে ছেলেদেরও
সালমা আক্তার (ছদ্মনাম) ও তার স্বামী বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত। তাদের ছেলের বয়স যখন ৫ বছর, তখন বাসায় যে গৃহকর্মীর কাছে থাকতো, সে নিয়মিতভাবে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করতো। ক্রমে শিশুটি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে এবং ওই গৃহকর্মীকে ভয় পেতে শুরু করে। ডাক্তারের কাছে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে বুঝতে পারেন এই দম্পতি। এই ঘটনা তাদের ওপর এতটাই প্রভাব ফেলেছিল যে, নিজেরাই সবসময় তটস্থ থাকতেন।
৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:১০ পূর্বাহ্ন
মৈত্রী দিবস: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ৫০ বছর
বাংলাদেশ ও ভারত দক্ষিণ এশিয়ার দুটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র হলেও এই ২ দেশের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন
পুঁজিবাজার নিয়ে বিএসইসির ভাষ্য রেফারিসুলভ নয়
শেয়ারবাজার নিয়ে বিএসইসির ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের কিছু বক্তব্য থেকে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তাদের বক্তব্য রেফারিসুলভ নয়। রেফারির কাজ সঠিকভাবে খেলা পরিচালনা করা, খেলায় ফলাফল কি হবে সেটি বলে দেওয়া নয়। বরং বিএসইসির কাজ হলো বাজারে যেন কেউ অন্যায় বা আইন না ভাঙে সেটি নিয়ে কাজ করা।
২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৭:১০ পূর্বাহ্ন
তবে কি ইঁদুর, তেলাপোকাই হবে এদেশের প্রধান বন্যপ্রাণী?
“মরা হাতি লাখ টাকা” ছোটবেলা থেকে এই প্রবাদটা শুনে এলেও, গত কয়েকদিনে ব্যাপারটা খুব কষ্টের সাথে অনুভব করছি। এদেশে মানুষও হত্যা করা হচ্ছে পেশাদার খুনি দিয়ে, হাতিও তাই। মানুষ হত্যা করে মাটি চাপা দিচ্ছে, মানুষের চাইতে ১০০ গুণ বড় হাতিকেও হত্যা করে মাটিচাপা দিচ্ছে। কী ভয়ংকর মানসিক অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি আমরা। খবরে পড়েছি বন দখলকারী একটি চক্র ভাড়াটে খুনিদের নিয়ে হাতি হত্যা করাচ্ছে। শেরপুর, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে একই কায়দায় হাতি হত্যা চলছে। এ যেন এক হত্যার উৎসব।
২৭ নভেম্বর ২০২১, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন
ক্ষমতাসীন দলের নেতা কি আইনের ঊর্ধ্বে!
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১ ধারায় গত কয়েক বছরে অসংখ্য মামলা হয়েছে। বিনা বিচারে শত শত নাগরিক জেল খেটেছেন। ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সঙ্গীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রপাগান্ডা ও প্রচারণায় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে বিতর্কিত আইনের এ ধারাটিতে।
২৬ নভেম্বর ২০২১, ০৫:৪১ অপরাহ্ন
ছাত্রদের বাস ভাড়া অর্ধেকের দাবি মেনে নিন
তেলের মূল্য বৃদ্ধি করার কয়েকদিনের মধ্যেই পরিবহন মালিকরা ঠিকই আন্দোলন করে সরকারের কাছ থেকে বাসে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার দাবি আদায় করেছে। যদিও পরবর্তিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ওপেক তেলের দাম আরও কমানোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে, তাতে তেলের দাম শিগগির আরেক দফা কমবে। কিন্তু তাতে কি পরিবহন ভাড়া আবার কমবে? সেটা হবে না। কারণ বাংলাদেশে একবার কোনো কিছুর দাম বাড়লে তা আর কখনো কমে না।
২৫ নভেম্বর ২০২১, ০৪:১০ অপরাহ্ন
রেহানা মরিয়াম নূর: ধূসর মনস্তত্ত্ব এবং কর্তৃত্ববাদের চিত্রায়ন
রেহানা মরিয়ম নূর চলচ্চিত্রটি চিন্তা উদ্রেককারী এবং শিক্ষামূলক একটি অসাধারণ ছবি। গভীর মনস্তাত্ত্বিক এবং বাহুমাত্রিক এই ছবিতে দেখা যায় ডা. রেহানা একজন মেডিকেল কলেজের শিক্ষক, সে বিধবা এবং এক শিশু সন্তানের মা। মা-বাবা, বেকার ভাই এবং কন্যা ইমুকে নিয়ে তার বসবাস। পরিবারে সে একমাত্র উপার্জনকারী। একদিকে পেশাগত দায়িত্ব, অন্যদিকে বাচ্চা লালন-পালন, মা-বাবা এবং ভাইয়ের প্রতি সে দায়িত্ব পালন করে। রেহানার অভিব্যক্তিতে সবসময় এক ধরনের অস্থিরতা এবং বিষণ্ণতা। কথা-বার্তা, আচার আচরণে সে অনমনীয়, অল্পতে বিরক্ত, একরোখা এবং কিছুটা আক্রমণাত্মক। রেহানার এমন মন-মেজাজ এবং আচরণের, বিশেষ করে শেষ দৃশ্যে তার সিদ্ধান্তের রেশ দর্শকের চিন্তায় প্রবাহিত করে ছবিটি শেষ হয়।
২৫ নভেম্বর ২০২১, ০৩:১৯ অপরাহ্ন
অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের ভূমিকা
গণতন্ত্র আর গণতান্ত্রিক নির্বাচিত সরকারের নিমিত্তে সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া আছে, বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের ১১নং অনুচ্ছেদে, যেখানে বলা হয়েছে ‘প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে, এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে।’ এমন সাংবিধানিক নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এক বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার বা নির্বাচন কমিশনের যথেষ্ট প্রতিশ্রুতি থাকার পরও নির্বাচন সঠিক না হওয়ায়, সবচেয়ে বেশি সমালোচনা তৈরি হয় আসলে সরকার বা নির্বাচন কমিশনের আন্তরিকতা বা সদিচ্ছা নিয়ে। কিন্তু, সুষ্ঠু নির্বাচন কোনো অলিক কল্পনা নয়, এটা বাস্তবায়িত করতে হয়। এমন কর্মযজ্ঞে, সর্বোচ্চ প্রশাসন থেকে সর্ব নিম্ন পর্যায়ের সরকারি জনবল নিয়োজিত থাকে। এক্ষেত্রে, আইনগতভাবেই বিচারিক বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।
২৫ নভেম্বর ২০২১, ০২:১৪ অপরাহ্ন
‘ধর্ষণ ঠেকাতে হাঁটু চেপে রাখা’ তত্ত্বের মতো?
যিনি যৌনকর্মী, তাকেও কি ধর্ষণ করার অধিকার কারো আছে? আইন বলে, নেই। যারা যৌনকর্মীদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন, তারা জানেন যৌনকর্মীরও অধিকার আছে, তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কিছু না করার।
১৬ নভেম্বর ২০২১, ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন
ইউপি নির্বাচনে নৌকার কেন এই বিপর্যয়?
দেশে দ্বিতীয় ধাপের ৮৪৬টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়ে গেল। এখন পর্যন্ত সারা দেশের চূড়ান্ত ফল জানা না গেলেও যেটুকু জানা গেছে তাতে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে সরকার দলীয় প্রতীক ‘নৌকা’ কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। অনেক জায়গাতেই ‘নৌকা’ অন্যান্য অ-দলীয় বা নির্দলীয় প্রতীকের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে।
১৫ নভেম্বর ২০২১, ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন
৫০ বছরে বাংলাদেশ: নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনার দেশ
আমি বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী বছরে এখানে ফিরে আসতে পেরে আনন্দিত। আমি আমার নতুন ও পুরানো বাংলাদেশি বন্ধুদের সঙ্গে এই দেশের অর্ধ শতাব্দীর অসাধারণ সাফল্য উদযাপন করতে উন্মুখ। দুই সপ্তাহ আগে লন্ডনে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫০ বছর বয়সী বাংলাদেশকে ‘সুযোগ ও সম্ভাবনার দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
১৫ নভেম্বর ২০২১, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন
এই ‘উন্নয়ন’ কার জন্য?
প্রথমবারের মতো তারা বাস্তুচ্যুত হন ১৯৫০ সালে। পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে ১ হাজার ৮৪২ একর জমি অধিগ্রহণ করে। সেই জমিতে আখের খামার করে স্থানীয় সাঁওতাল ও বাঙালিদের মজুর হিসেবে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয় সরকার। এটি ১৯৫৫-৫৬ সালের দিকের ঘটনা। তখনও উপমহাদেশের বাসিন্দারা দেশভাগ এবং রায়টের ধাক্কা পুরোপুরি সামলে উঠতে পারেননি। স্থানীয় সম্প্রদায়ের মনে সম্ভবত তখনো ১৯৫০ সালের মার্চে পাকিস্তান পুলিশের হাতে গোবিন্দগঞ্জের সীমান্তের কাছে ১৭ সাঁওতাল শরণার্থী হত্যার স্মৃতি সতেজ। তবে খুব সম্ভবত ক্ষুধার যন্ত্রণা আরও বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছিল। প্রায় ২ শতকের ঔপনিবেশিক শোষণের পর সে সময় উত্তরবঙ্গ ছিল সমগ্র অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে দরিদ্র ও বঞ্চিত অঞ্চল এবং পরবর্তী আরও বেশ কয়েক দশকেও এ পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
১৪ নভেম্বর ২০২১, ০১:৪১ অপরাহ্ন
বকশিসের বলি ও প্রান্তজনের স্বাস্থ্যসেবা
দাবি করা টাকা না পেয়ে একজন মুমূর্ষু রোগীর নাক-মুখ থেকে অক্সিজেন সংযোগ খুলে নিলেন হাসপাতালের এক কর্মী। জীবনরক্ষাকারী এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় রোগী মারা গেলেন। খবরে দেখা যাচ্ছে, তিনি ‘বকশিস’ চেয়েছিলেন ২০০ টাকা। রোগীর দরিদ্র বাবা ১৫০ টাকা দিতে পেরেছেন। বাকি ৫০ টাকা না পাওয়ায় ছেলেটাকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিলেন হাসপাতালের ওই দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মী। গত মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) রাতে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটেছে।
১৩ নভেম্বর ২০২১, ১২:২৯ অপরাহ্ন
মাননীয় বিচারক, আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছি
রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০১৭ সালের ৬ মে দায়ের করা মামলায় ৫ আসামির সবাইকেই খালাস দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম কামরুন্নাহার। মাননীয় বিচারক মনে করেন মামলাটি দুর্বল, প্রমাণের ঘাটতি রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর অভাব ছিল। এই মতামতগুলো কতটা সঠিক এবং আইনসিদ্ধ তা নিঃসন্দেহে আপিল শুনানিতে উচ্চ আদালত দেখবেন।
১৩ নভেম্বর ২০২১, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন
জনগণের ভালো কেন বুঝতে চান না আমাদের নীতিনির্ধারকরা?
কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়া রাস্তা আটকে রেখে জনসাধারণকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাফিক জ্যামে বসিয়ে রাখা থেকে শুরু করে বিদেশি অতিথিদের আগমনে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোতে যাতায়াত নিষিদ্ধ করা, নোটিশ ছাড়াই গ্যাস ও বিদ্যুতের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু করা, মেগা প্রকল্পের জন্য অযৌক্তিকভাবে যান চলাচলের রাস্তা পাল্টে দেওয়া এবং বারবার সরকারিভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া—এ সবই জনগণের কথা বিন্দুমাত্র না ভেবে করা হয়। অধিকারের কথা তো বলাই বাহুল্য। জনসাধারণের অধিকার এবং তাদের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার বিষয়টি আমাদের আমলা ও নীতিনির্ধারকদের নজরে থাকলে সাধারণ জনগণের হতাশার জায়গাগুলোর আরও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা হতো।
১৩ নভেম্বর ২০২১, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ের সংস্কৃতি বদলে জ্ঞানচর্চার সংস্কৃতি চালু হোক
প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মানুষ তার মুখোমুখি হওয়া সমস্যার সমাধান করেছে বুদ্ধি, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার আলোকে। আধুনিক মানুষের কাছাকাছি অস্ট্রালোপিথেকাস থেকে শুরু করে হোমো ইরেকটাস, হোমোসেপিয়েন্স পর্যন্ত সবাই প্রতিনিয়ত চেষ্টা, সংগ্রাম, পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে জীবনমান উন্নীত করার চেষ্টা করেছে। নব্যপ্রস্তর সংস্কৃতিতে ‘মানুষ’ পাথরের ধারালো হাতিয়ারের মাধ্যমে কৃষি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যাযাবর জীবনের পরিবর্তে স্থায়ীভাবে বসত গড়েছে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সভ্যতা-নগরায়নের উদ্ভব, বিকাশ ও এর মধ্য দিয়ে বর্তমান আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার রুটে এসে উপনীত হয়েছে মানব সভ্যতা। যা কখনো পাথর যুগ, কখনো তাম্র যুগ, কখনো বা লৌহ যুগ নামে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ। তবে এই যুগ বা সময়কে যে নামেই আখ্যায়িত করা হোক না কেন; একটি বিষয়ই স্বতঃসিদ্ধ সত্য। আর তা হলো- মানুষ একটি ‘ভালো জীবনের’ আশায় প্রতিনিয়ত তার জ্ঞান, বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে সতত সংগ্রামে নিয়োজিত।
১২ নভেম্বর ২০২১, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন
প্রখর ব্যক্তিত্বের বিভায় সমুজ্জ্বল সৈয়দ আকরম হোসেন
প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এক সম্মাননা অনুষ্ঠানে দুঃখ করে বলেছিলেন শিক্ষকদের দেখলে শিক্ষার্থীরা আর অন্তর থেকে ভক্তি-শ্রদ্ধা করে না। কিন্তু এই দহনকালে এখনও কিছু শিক্ষক আছেন যাদের অন্তর থেকে শ্রদ্ধা করে, ভালোবাসে শিক্ষার্থীরা। মাথার মুকুট মনে করে তাদের সামনে শ্রদ্ধায় অবনত হয়। হতাশায় আচ্ছন্ন সময়ে তারাই জাতির বাতিঘর। নিঃসন্দেহে এ কালে সৈয়দ আকরম হোসেন তাদের মধ্যে অন্যতম।
৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন
কিছু আন্দোলন মানুষের হাতে থাক
আমাদের আন্দোলনগুলো হাতছাড়া হয়ে যায়, লুট হয়ে যায়। কখনো বন্ধুর বেশে ঢুকে পড়ে, কখনো শত্রুর বেশে হামলে পড়ে সুযোগ নেয় অন্যরা। অনেক বছর ধরে সাধারণ মানুষের কোনো আন্দোলন চূড়ান্তভাবে আর তাদের হাতে থাকছে না।
৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন
রাজনীতি ও ভাষার অপব্যবহার
বাকস্বাধীনতা এবং নাগরিকের ব্যক্তিগত বিষয় ও গোপনীয়তা উভয়ই সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত। একটা আর একটা মাড়িয়ে যেতে পারে না। আর সেই সীমাবদ্ধতাগুলোও সংবিধান ঠিক করে দিয়েছে। এই অধিকারগুলো একই সঙ্গে সাংবিধানিক দায়িত্বও বটে, যা রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে বাধ্য থাকে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়ও এই অধিকারগুলো খর্ব করা যায় না। তাই, সাধারণ নাগরিকদের চেয়ে, এই অধিকারগুলো টিকিয়ে রাখতে রাজনীতিবিদদেরই দায়িত্ব বেশি থাকে। আইনি দিক বাদ দিয়ে নীতিগত ভাবে দেখলেও রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব আগে চলে আসে। রাজনীতি যারা করেন, তারা শুধু দেশই চালান না, তারা জাতির পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করেন। পারিবারিক শিক্ষা যেমনি মানুষকে পরিশীলিত করে, তেমনি রাষ্ট্রীয় শিক্ষাও মানুষকে জাতীয় জীবনের আচরণ ও ব্যবহারকে তৈরি করে দেয়। এই রাষ্ট্রীয় শিক্ষার খানিকটা আসে, রাজনীতিক আর রাষ্ট্রনায়কদের আচরণ আর ভাষার ব্যবহার থেকে। কারণ মানুষের মুখের ভাষা, শুধু যে কিছু প্রকাশ্য শব্দ তা নয়, বরং তা একজনের জীবনাদর্শ, নীতিজ্ঞান আর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এরও প্রতিফলন।
৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন
৯০ এর আন্দোলনের ৩ দশক: ফিরে দেখা আমাদের আকাঙ্ক্ষা ও অর্জন
আজ থেকে ৩ দশক আগে সামরিক জান্তা এরশাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ বছর আন্দোলনের পর তার পতন হয়েছিল। সে আন্দোলনে প্রায় ৩৭০ জন জীবন দিয়েছিলেন, পঙ্গু-গুম হয়েছিলেন অসংখ্য মানুষ। হরতাল হয়েছিল প্রায় ১ বছর ৩২৮ দিন! অবরোধ হয়েছিল ৭০ দিন। জাতীয় সম্পদ ও আর্থিক ক্ষতিও হয়েছিল প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার।
৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন
শুধু মেয়েদেরই নয়, যৌন নিপীড়ন করা হচ্ছে ছেলেদেরও
সালমা আক্তার (ছদ্মনাম) ও তার স্বামী বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত। তাদের ছেলের বয়স যখন ৫ বছর, তখন বাসায় যে গৃহকর্মীর কাছে থাকতো, সে নিয়মিতভাবে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করতো। ক্রমে শিশুটি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে এবং ওই গৃহকর্মীকে ভয় পেতে শুরু করে। ডাক্তারের কাছে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে বুঝতে পারেন এই দম্পতি। এই ঘটনা তাদের ওপর এতটাই প্রভাব ফেলেছিল যে, নিজেরাই সবসময় তটস্থ থাকতেন।
৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:১০ পূর্বাহ্ন
মৈত্রী দিবস: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ৫০ বছর
বাংলাদেশ ও ভারত দক্ষিণ এশিয়ার দুটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র হলেও এই ২ দেশের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন
পুঁজিবাজার নিয়ে বিএসইসির ভাষ্য রেফারিসুলভ নয়
শেয়ারবাজার নিয়ে বিএসইসির ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের কিছু বক্তব্য থেকে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তাদের বক্তব্য রেফারিসুলভ নয়। রেফারির কাজ সঠিকভাবে খেলা পরিচালনা করা, খেলায় ফলাফল কি হবে সেটি বলে দেওয়া নয়। বরং বিএসইসির কাজ হলো বাজারে যেন কেউ অন্যায় বা আইন না ভাঙে সেটি নিয়ে কাজ করা।
২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৭:১০ পূর্বাহ্ন
তবে কি ইঁদুর, তেলাপোকাই হবে এদেশের প্রধান বন্যপ্রাণী?
“মরা হাতি লাখ টাকা” ছোটবেলা থেকে এই প্রবাদটা শুনে এলেও, গত কয়েকদিনে ব্যাপারটা খুব কষ্টের সাথে অনুভব করছি। এদেশে মানুষও হত্যা করা হচ্ছে পেশাদার খুনি দিয়ে, হাতিও তাই। মানুষ হত্যা করে মাটি চাপা দিচ্ছে, মানুষের চাইতে ১০০ গুণ বড় হাতিকেও হত্যা করে মাটিচাপা দিচ্ছে। কী ভয়ংকর মানসিক অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি আমরা। খবরে পড়েছি বন দখলকারী একটি চক্র ভাড়াটে খুনিদের নিয়ে হাতি হত্যা করাচ্ছে। শেরপুর, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে একই কায়দায় হাতি হত্যা চলছে। এ যেন এক হত্যার উৎসব।
২৭ নভেম্বর ২০২১, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন
ক্ষমতাসীন দলের নেতা কি আইনের ঊর্ধ্বে!
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১ ধারায় গত কয়েক বছরে অসংখ্য মামলা হয়েছে। বিনা বিচারে শত শত নাগরিক জেল খেটেছেন। ডিজিটাল মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সঙ্গীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রপাগান্ডা ও প্রচারণায় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে বিতর্কিত আইনের এ ধারাটিতে।
২৬ নভেম্বর ২০২১, ০৫:৪১ অপরাহ্ন
ছাত্রদের বাস ভাড়া অর্ধেকের দাবি মেনে নিন
তেলের মূল্য বৃদ্ধি করার কয়েকদিনের মধ্যেই পরিবহন মালিকরা ঠিকই আন্দোলন করে সরকারের কাছ থেকে বাসে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার দাবি আদায় করেছে। যদিও পরবর্তিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ওপেক তেলের দাম আরও কমানোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে, তাতে তেলের দাম শিগগির আরেক দফা কমবে। কিন্তু তাতে কি পরিবহন ভাড়া আবার কমবে? সেটা হবে না। কারণ বাংলাদেশে একবার কোনো কিছুর দাম বাড়লে তা আর কখনো কমে না।
২৫ নভেম্বর ২০২১, ০৪:১০ অপরাহ্ন
রেহানা মরিয়াম নূর: ধূসর মনস্তত্ত্ব এবং কর্তৃত্ববাদের চিত্রায়ন
রেহানা মরিয়ম নূর চলচ্চিত্রটি চিন্তা উদ্রেককারী এবং শিক্ষামূলক একটি অসাধারণ ছবি। গভীর মনস্তাত্ত্বিক এবং বাহুমাত্রিক এই ছবিতে দেখা যায় ডা. রেহানা একজন মেডিকেল কলেজের শিক্ষক, সে বিধবা এবং এক শিশু সন্তানের মা। মা-বাবা, বেকার ভাই এবং কন্যা ইমুকে নিয়ে তার বসবাস। পরিবারে সে একমাত্র উপার্জনকারী। একদিকে পেশাগত দায়িত্ব, অন্যদিকে বাচ্চা লালন-পালন, মা-বাবা এবং ভাইয়ের প্রতি সে দায়িত্ব পালন করে। রেহানার অভিব্যক্তিতে সবসময় এক ধরনের অস্থিরতা এবং বিষণ্ণতা। কথা-বার্তা, আচার আচরণে সে অনমনীয়, অল্পতে বিরক্ত, একরোখা এবং কিছুটা আক্রমণাত্মক। রেহানার এমন মন-মেজাজ এবং আচরণের, বিশেষ করে শেষ দৃশ্যে তার সিদ্ধান্তের রেশ দর্শকের চিন্তায় প্রবাহিত করে ছবিটি শেষ হয়।
২৫ নভেম্বর ২০২১, ০৩:১৯ অপরাহ্ন
অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের ভূমিকা
গণতন্ত্র আর গণতান্ত্রিক নির্বাচিত সরকারের নিমিত্তে সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া আছে, বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের ১১নং অনুচ্ছেদে, যেখানে বলা হয়েছে ‘প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে, এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে।’ এমন সাংবিধানিক নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এক বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার বা নির্বাচন কমিশনের যথেষ্ট প্রতিশ্রুতি থাকার পরও নির্বাচন সঠিক না হওয়ায়, সবচেয়ে বেশি সমালোচনা তৈরি হয় আসলে সরকার বা নির্বাচন কমিশনের আন্তরিকতা বা সদিচ্ছা নিয়ে। কিন্তু, সুষ্ঠু নির্বাচন কোনো অলিক কল্পনা নয়, এটা বাস্তবায়িত করতে হয়। এমন কর্মযজ্ঞে, সর্বোচ্চ প্রশাসন থেকে সর্ব নিম্ন পর্যায়ের সরকারি জনবল নিয়োজিত থাকে। এক্ষেত্রে, আইনগতভাবেই বিচারিক বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।
২৫ নভেম্বর ২০২১, ০২:১৪ অপরাহ্ন
‘ধর্ষণ ঠেকাতে হাঁটু চেপে রাখা’ তত্ত্বের মতো?
যিনি যৌনকর্মী, তাকেও কি ধর্ষণ করার অধিকার কারো আছে? আইন বলে, নেই। যারা যৌনকর্মীদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন, তারা জানেন যৌনকর্মীরও অধিকার আছে, তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কিছু না করার।
১৬ নভেম্বর ২০২১, ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন
ইউপি নির্বাচনে নৌকার কেন এই বিপর্যয়?
দেশে দ্বিতীয় ধাপের ৮৪৬টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়ে গেল। এখন পর্যন্ত সারা দেশের চূড়ান্ত ফল জানা না গেলেও যেটুকু জানা গেছে তাতে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে সরকার দলীয় প্রতীক ‘নৌকা’ কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। অনেক জায়গাতেই ‘নৌকা’ অন্যান্য অ-দলীয় বা নির্দলীয় প্রতীকের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে।
১৫ নভেম্বর ২০২১, ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন
৫০ বছরে বাংলাদেশ: নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনার দেশ
আমি বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী বছরে এখানে ফিরে আসতে পেরে আনন্দিত। আমি আমার নতুন ও পুরানো বাংলাদেশি বন্ধুদের সঙ্গে এই দেশের অর্ধ শতাব্দীর অসাধারণ সাফল্য উদযাপন করতে উন্মুখ। দুই সপ্তাহ আগে লন্ডনে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫০ বছর বয়সী বাংলাদেশকে ‘সুযোগ ও সম্ভাবনার দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
১৫ নভেম্বর ২০২১, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন
এই ‘উন্নয়ন’ কার জন্য?
প্রথমবারের মতো তারা বাস্তুচ্যুত হন ১৯৫০ সালে। পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে ১ হাজার ৮৪২ একর জমি অধিগ্রহণ করে। সেই জমিতে আখের খামার করে স্থানীয় সাঁওতাল ও বাঙালিদের মজুর হিসেবে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয় সরকার। এটি ১৯৫৫-৫৬ সালের দিকের ঘটনা। তখনও উপমহাদেশের বাসিন্দারা দেশভাগ এবং রায়টের ধাক্কা পুরোপুরি সামলে উঠতে পারেননি। স্থানীয় সম্প্রদায়ের মনে সম্ভবত তখনো ১৯৫০ সালের মার্চে পাকিস্তান পুলিশের হাতে গোবিন্দগঞ্জের সীমান্তের কাছে ১৭ সাঁওতাল শরণার্থী হত্যার স্মৃতি সতেজ। তবে খুব সম্ভবত ক্ষুধার যন্ত্রণা আরও বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছিল। প্রায় ২ শতকের ঔপনিবেশিক শোষণের পর সে সময় উত্তরবঙ্গ ছিল সমগ্র অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে দরিদ্র ও বঞ্চিত অঞ্চল এবং পরবর্তী আরও বেশ কয়েক দশকেও এ পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
১৪ নভেম্বর ২০২১, ০১:৪১ অপরাহ্ন
বকশিসের বলি ও প্রান্তজনের স্বাস্থ্যসেবা
দাবি করা টাকা না পেয়ে একজন মুমূর্ষু রোগীর নাক-মুখ থেকে অক্সিজেন সংযোগ খুলে নিলেন হাসপাতালের এক কর্মী। জীবনরক্ষাকারী এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় রোগী মারা গেলেন। খবরে দেখা যাচ্ছে, তিনি ‘বকশিস’ চেয়েছিলেন ২০০ টাকা। রোগীর দরিদ্র বাবা ১৫০ টাকা দিতে পেরেছেন। বাকি ৫০ টাকা না পাওয়ায় ছেলেটাকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিলেন হাসপাতালের ওই দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মী। গত মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) রাতে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটেছে।
১৩ নভেম্বর ২০২১, ১২:২৯ অপরাহ্ন
মাননীয় বিচারক, আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছি
রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০১৭ সালের ৬ মে দায়ের করা মামলায় ৫ আসামির সবাইকেই খালাস দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম কামরুন্নাহার। মাননীয় বিচারক মনে করেন মামলাটি দুর্বল, প্রমাণের ঘাটতি রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর অভাব ছিল। এই মতামতগুলো কতটা সঠিক এবং আইনসিদ্ধ তা নিঃসন্দেহে আপিল শুনানিতে উচ্চ আদালত দেখবেন।
১৩ নভেম্বর ২০২১, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন
জনগণের ভালো কেন বুঝতে চান না আমাদের নীতিনির্ধারকরা?
কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়া রাস্তা আটকে রেখে জনসাধারণকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাফিক জ্যামে বসিয়ে রাখা থেকে শুরু করে বিদেশি অতিথিদের আগমনে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোতে যাতায়াত নিষিদ্ধ করা, নোটিশ ছাড়াই গ্যাস ও বিদ্যুতের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু করা, মেগা প্রকল্পের জন্য অযৌক্তিকভাবে যান চলাচলের রাস্তা পাল্টে দেওয়া এবং বারবার সরকারিভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া—এ সবই জনগণের কথা বিন্দুমাত্র না ভেবে করা হয়। অধিকারের কথা তো বলাই বাহুল্য। জনসাধারণের অধিকার এবং তাদের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার বিষয়টি আমাদের আমলা ও নীতিনির্ধারকদের নজরে থাকলে সাধারণ জনগণের হতাশার জায়গাগুলোর আরও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা হতো।
১৩ নভেম্বর ২০২১, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ের সংস্কৃতি বদলে জ্ঞানচর্চার সংস্কৃতি চালু হোক
প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মানুষ তার মুখোমুখি হওয়া সমস্যার সমাধান করেছে বুদ্ধি, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার আলোকে। আধুনিক মানুষের কাছাকাছি অস্ট্রালোপিথেকাস থেকে শুরু করে হোমো ইরেকটাস, হোমোসেপিয়েন্স পর্যন্ত সবাই প্রতিনিয়ত চেষ্টা, সংগ্রাম, পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে জীবনমান উন্নীত করার চেষ্টা করেছে। নব্যপ্রস্তর সংস্কৃতিতে ‘মানুষ’ পাথরের ধারালো হাতিয়ারের মাধ্যমে কৃষি বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যাযাবর জীবনের পরিবর্তে স্থায়ীভাবে বসত গড়েছে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সভ্যতা-নগরায়নের উদ্ভব, বিকাশ ও এর মধ্য দিয়ে বর্তমান আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার রুটে এসে উপনীত হয়েছে মানব সভ্যতা। যা কখনো পাথর যুগ, কখনো তাম্র যুগ, কখনো বা লৌহ যুগ নামে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ। তবে এই যুগ বা সময়কে যে নামেই আখ্যায়িত করা হোক না কেন; একটি বিষয়ই স্বতঃসিদ্ধ সত্য। আর তা হলো- মানুষ একটি ‘ভালো জীবনের’ আশায় প্রতিনিয়ত তার জ্ঞান, বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে সতত সংগ্রামে নিয়োজিত।
১২ নভেম্বর ২০২১, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন